বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার দেশে ফেরার বিষয়ে নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভক্ত-সমর্থকদের মনে প্রশ্ন— কবে ফিরবেন দেশের ক্রিকেটের এই মহাতারকা?

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের অবদান
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে যদি একজন ক্রিকেটারের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয়, তবে তিনি নিঃসন্দেহে সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য সাফল্য ও গৌরব। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই ক্রিকেটারের অবদান শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার নেতৃত্ব, পারফরম্যান্স ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা
একসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটকে তলানির দল হিসেবেই গণ্য করা হতো। কিন্তু সাকিব আল হাসানের আবির্ভাবের পর থেকেই দলের পারফরম্যান্স বদলাতে শুরু করে। তার অসাধারণ অলরাউন্ড দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—প্রতিটি বিভাগেই সমান দক্ষতা দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশকে বহু ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
সাকিব আল হাসান শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান: দীর্ঘ সময় ধরে আইসিসি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ছিলেন তিনি।
২০১৯ বিশ্বকাপে অনন্য রেকর্ড: ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই আসরে ৬০০+ রান ও ১০+ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।
সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট একসাথে: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার ঝুলিতে।
বড় মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
বড় ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্স সবসময়ই নজরকাড়া। ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ব্যাটিং ও বোলিং করেছেন তিনি। এছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ, এবং আইপিএলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লিগেও তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।
নেতৃত্বগুণ ও দলকে অনুপ্রেরণা দেওয়া
সাকিব আল হাসান কেবল পারফর্মার নন, তিনি একজন অসাধারণ নেতা।
২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের স্বাদ এনে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
২০১৯ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলকে হারায়।
তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা, যারা তার কাছ থেকে শিখে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ছেন।
ক্রিকেটের বাইরেও তার অবদান
সাকিব আল হাসান শুধুমাত্র মাঠের পারফর্মার নন, দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে তার ভূমিকা বিশাল।
তিনি দেশের বিভিন্ন তরুণ প্রতিভাদের অনুপ্রাণিত করেন।
নিজস্ব ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তুলেছেন, যেখানে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক লিগে খেলে দেশের ক্রিকেটের প্রতি আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সাকিব আল হাসানের মতো ক্রিকেটাররা শতাব্দীতে একবারই জন্মান। তার অসামান্য পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব ও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বাংলাদেশকে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। তার অবদান কখনোই ভোলার নয়। ভবিষ্যতে তিনি যে পথেই হাঁটুন, তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গ
সাকিব আল হাসান ব্যক্তিগত ও আইনি কিছু জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বাইরে আছেন। তবে তার দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরায় কোনো আইনগত বাধা নেই এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এর আগে কিছু বিতর্ক ও মামলার কারণে তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে দ্বিধান্বিত ছিলেন। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।
কবে ফিরবেন সাকিব আল হাসান?
বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার দেশে ফেরার বিষয়ে ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। – SOMOYER KONTHOSOR
সাকিব আল হাসান তার শেষ টেস্ট ম্যাচটি মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে চান। এ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ইতোমধ্যে অবহিত করেছেন। তবে তার দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, সাকিব আল হাসান নিজেই তার ফেরার তারিখটি গোপন রেখেছেন, তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি বৃহস্পতিবার দেশে ফিরতে পারেন। – TBS NEWS
সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশে ফেরার বিষয়ে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি তার নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা প্রদানে আশ্বাস দিয়েছেন। এখন ভক্তরা অপেক্ষায় আছেন কবে তাদের প্রিয় ক্রিকেটার দেশে ফিরে আসবেন এবং মাঠে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলবেন।
সাকিব আল হাসানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ: কী অপেক্ষা করছে সামনে?
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল ও প্রতিভাবান অলরাউন্ডারদের একজন, সাকিব আল হাসান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে তিনি কোন পথে এগোবেন, সেটা এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক বড় প্রশ্ন। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা, ব্যক্তিগত জীবন, রাজনীতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম—সব মিলিয়ে সাকিবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।
টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা
সাকিব আল হাসান আগেই জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলে তিনি টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বাংলাদেশের হয়ে অসংখ্য ম্যাচ খেলেছেন এবং নিজেকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে তার উপস্থিতি কমে গিয়েছে, যার ফলে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশিতই ছিল।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ
টেস্ট থেকে অবসর নিলেও সাকিব আল হাসান এখনো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যেতে চান। তবে বড় প্রশ্ন হলো— তিনি আর কতদিন জাতীয় দলে খেলবেন?
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: বাংলাদেশ দলের জন্য বড় একটি লক্ষ্য হতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। সাকিব আল হাসান যদি ফিট থাকেন এবং পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তিনি এই প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: সাকিব আল হাসান কি এই বিশ্বকাপে খেলবেন? যদিও বয়স তখন ৩৯-এর ঘরে পৌঁছে যাবে, তবে তার ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে তার ভবিষ্যৎ।
রাজনীতি ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা
সাকিব আল হাসান ইতোমধ্যেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় হতে পারেন। পাশাপাশি তার বেশ কিছু ব্যবসায়িক উদ্যোগও রয়েছে। যেমন কৃষিপণ্য, রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠান। এসব দিকেও তিনি আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন, যা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের উত্তরাধিকার
সাকিব আল হাসান যখন ক্রিকেট ছাড়বেন, তখন তিনি কীভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সাহায্য করবেন? অনেকেই আশা করছেন, তিনি কোচিং, পরামর্শদাতা বা বিসিবির কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। ভবিষ্যতে তাকে তরুণ ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
শেষ কথা
সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কাটতে শুরু করেছে। বিসিবির আশ্বাস এবং ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশা— শিগগিরই দেশের মাঠে ফিরবেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।